রামাদানের প্রস্তুতি নিই নফল সিয়ামের মাধ্যমে

রামাদানের প্রস্তুতি,নফল সিয়াম

চলমান রজব মাসের আইয়ামে বীজের রোজাগুলো রাখতে হবে ২৬, ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্র, শনি ও রবিবার)। এর সাথে যদি গত বৃহস্পতিবার ও ১ মার্চ সোমবার আরও দুইটা রোজা রাখি। তাহলে টানা পাঁচ দিনে আমাদের ২ টা সুন্নাহ পালন করা হবে। কারণ সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখাও সুন্নাহ। ফলে রামাদানের জন্য আমাদের সুন্দর একটা প্রস্তুতি হয়ে যাবে। তাই যাদের সুযোগ আছে বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার সবগুলো সিয়াম পালন করি।

অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে শুক্রবার ঈদের দিন তাই রোজা রাখা হারাম। এটা সঠিক নয়। শুধু শুক্রবারকে নির্দিষ্ট করে রোজা রাখা মাকরুহ, হাদীসে নিষেধ আছে। কিন্তু শুক্রবার অন্য কোনো বিশেষ রোজার দিন হলে তাতে এটা মাকরুহ হবে না। যেমন শুক্রবারে যদি আরাফাহ দিবস হয়, আশুরা হয়, আইয়ামে বীজ হয় তাহলে শুক্রবার রোজা রাখাতে কোনো অসুবিধা নাই।

আইয়ামে বীজ আরবি দু’টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আইয়ামে অর্থ দিবসসমূহ, আর বীজ অর্থ শুভ্র, সাদা, শ্বেত, খাঁটি, নির্ভেজাল। প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। অনেকগুলো সহীহ হাদীস দ্বারা এই তিন দিন রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আমাদের দেশে অনেকেই রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে বিশেষ ইবাদত ও পরদিন “শবে মেরাজের আমল” হিসাবে রোজা রেখে থাকেন। এগুলো সুস্পষ্ট ভাবে সুন্নতের খেলাফ। মেরাজ সংঘটিত হওয়ার পর নবীজি (সা) অনেক বছর বেঁচে ছিলেন। তিনি বাকি জীবনে উক্ত রাতে বিশেষ ইবাদত ও পরদিন রোজা রাখেন নি। এমন কি ২৭ রজবের রাতেই যে মেরাজ হয়েছিল এটাও হাদীস দ্বারা নিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত নয়। শবে মেরাজের তারিখ সংক্রান্ত ১৬ টি মতের মধ্যে একটি দুর্বলতম মত হচ্ছে ২৭ রজব। তাই আসুন, নিজেদের মনগড়া আমল পরিত্যাগ করে সুন্নতের উপর আমল করি। পবিত্র রজব মাসের আইয়ামে বীজের রোজাগুলো অন্তত রাখি। সুযোগ হলে সপ্তাহের প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারও রোজা রাখি। এ রোজাগুলো নবীজির (সা) সারা জীবনের সুন্নত।

তাই চলুন আমরা প্রত্যেকে নফল সিয়ামগুলো পালন করি। কারণ সিয়াম এমন একটা ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দিবেন। সিয়াম পালনকারী বান্দাকে আল্লাহ এত পরিমাণ প্রতিদান দিবেন যে বান্দা আনন্দিত হবে।

আইয়ামে বীজের সিয়াম সম্পর্কিত কয়েকটি হাদীস জেনে নেয়া যাক।

হাদীস ১
————
ইবনু মিলহান আল-ক্বায়সী (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আইয়ামে বীয অর্থৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এগুলো সারা বছর সওম রাখার সমতুল্য।

(আবু দাউদ ২৪৪৯ – http://ihadis.com/books/abi-dawud/hadis/2449)

হাদীস ২
————
জারীর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ

প্রত্যেক মাসের তিন দিন সাওম (রোযা) পালন করা সারা জীবন সাওম (রোযা) পালন করার সমতুল্য। আর আইয়ামে বীয -তের তারিখের সকাল থেকে চোদ্দ এবং পনের তারিখ পর্যন্ত।

(নাসায়ী ২৪২০ – http://ihadis.com/books/nasayi/hadis/2420 )

হাদীস ৩
————
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমার বন্ধু (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন,

প্রতি মাসে তিন দিন করে সওম পালন করা এবং দু’রাক’আত সলাতুয-যুহা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।
(বুখারী ১৯৮১ – http://www.ihadis.com/books/bukhari/hadis/1981)

আল্লাহ আমাদের সকলকে প্রতি চান্দ্র মাসের মাঝের তিন দিন আইয়ামে বীজের সিয়ামগুলো রাখার তাওফিক দান করুন। আমীন।

দাওয়াহ এর নিয়তে চাইলে পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আমাদের কারো মাধ্যমে উক্ত আমলটি কেউ শুরু করলে ইনশাআল্লাহ আমরা এর দ্বারা সাদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পেতে থাকব।

Credit: Muslims Day Android App
Download Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=theoaktroop.appoframadan

Leave a Comment

x