শাবান মাসে নফল সিয়ামগুলো রাখছেন তো?

এ মাসের অন্যতম ইবাদত নফল সিয়াম

চলছে হিজরি ১৪৪২ হিজরির পবিত্র শা’বান মাস। এ মাসটি শেষ হলেই শুরু হবে প্রতিটি মুসলিমের কাছে আকাঙ্খার মাস পবিত্র রামাদান। নবীজি (সা) শা’বান মাস থেকেই অনেক বেশি ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতেন। তাই আমাদেরও উচিত নবীজির (সা) অনুসরণ করে রামাদানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।

রামাদান শুরুর আগেই কিছু নফল সিয়াম পালন করলে তা পরবর্তীতে রামাদানের সিয়ামগুলো রাখতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ। এর মাধ্যমে আমরা রামাদান আসার আগেই তাক্বওয়া অর্জনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হতে পারি। নবীজি (সা) শা’বান মাসে এত বেশি নফল সিয়াম পালন করতেন, মনে হত যেন তিনি সারা মাসই সিয়াম রাখছেন। তাই আসুন আমরা এ মাসে বেশি বেশি সিয়াম রাখি। সব দিন না পারলে সপ্তাহের সোম-বৃহস্পতিবার অন্তত সিয়াম রাখি। সোমবার নবীজির (সা) জন্মবার। এজন্য তিনি সোমবার সিয়াম পালন করতেন। আর বৃহস্পতিবার বান্দার আমলনামা আল্লাহর সামনে পেশ করা হয়। তাই এদিনও নবীজি (সা) সিয়াম পালন করতেন। যেন আমলনামা পেশ করার সময়টা সিয়াম পালনরত অবস্থায় থাকা হয়।

অন্তত শা’বান মাসের আইয়ামে বীজের সিয়ামগুলো কেউ মিস না করি। এ মাসের আইয়ামে বীজের সিয়ামের তারিখগুলো হচ্ছে শা’বান মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ মোতাবেক ২৮, ২৯ ও ৩০ মার্চ। অনেকে আছেন শুধু ১৫ শা’বান শবে বরাত উপলক্ষে সিয়াম রাখেন। শুধু এদিন সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে হাদীসগ্রন্থ ইবনে মাজাহ ১৩৮৮ নম্বর হাদীসের দলিল পাওয়া যায়। যার বর্ণনা সূত্রটি খুবই দুর্বল। এর ভিত্তিতে অনেক আলেম ১৫ শা’বানের সিয়ামকে মুস্তাহাব বলেছেন। আবার মুফতি তাক্বী উসমানী হাফিজাহুল্লাহর মত বড় আলেম এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে এ দিনের সিয়ামকে মুস্তাহাব বলাকে অনুচিত বলেছেন।

তাই সেফ সাইডে থাকার জন্য আমরা শা’বানের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ৩ দিনই সিয়াম পালন করতে পারি। এতে নবীজির (সা) সারা জীবনের আইয়ামে বীজের আমল হয়ে যাবে। আর শুধু ১৫ শা’বানের হাদীসটি যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে এর উপরও আমল করা হয়ে যাবে। আর সিয়াম তো আমরা পালন করব আল্লাহরই জন্য। ২ দিন বেশি সিয়াম পালন করলে তা আমাদের জন্য উপকারীই হবে।

শা’বানের ১৫ তারিখ লাইলাতুন নিসফ মিন শা’বান বা শা’বান মাসের মধ্য রজনী যা শবে বরাত নামে আমাদের অঞ্চলে পরিচিত। এ রাতের কিছু ফজিলত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আবার বেশ কিছু ধারণা ও কথা প্রচলিত আছে যেগুলো কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। আমাদের উচিত মানুষের মনগড়া ও ভিত্তিহীন রেওয়াজ-রসমগুলো ত্যাগ করে সুন্নাহ মোতাবেক শবে বরাতের আমল করা। এজন্য আমাদেরকে জানতে হবে শবে বরাত সম্পর্কে হাদীস শরীফে কী কী বলা আছে এবং কোন বিষয়গুলো মানুষ বানিয়েছে বা নতুন করে সংযোজন করেছে।

নিচের লিংক থেকে শবে বরাত সম্পর্কে কুরআন-হাদীস থেকে কী জানা যায় এবং এর করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো দলিল সহ বর্ণনা করা হয়েছেঃ
https://hellohasan.com/2016/07/04/শবে-বরাত-ফজিলত-আমল

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে লাইলাতুন নিসফ মিন শা’বানের ফজিলত হাসিল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Credit: Muslims Day Android App
Download Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=theoaktroop.appoframadan

Leave a Comment

x